এশিয়ার চালের বাজার

সরবরাহ সংকটে ভারতে রফতানি মূল্য বেড়ে ১০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে

এশিয়ার চালের বাজারে গত সপ্তাহে দাম বেড়েছে। সরবরাহ সংকট ও নতুন মৌসুমের ফসল নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দেয়।

এছাড়া ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বেড়েছে ধান ও চালের। ফলে রফতানি মূল্য বেড়ে ১০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছায়। অন্যদিকে বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে বাংলাদেশে চালের অভ্যন্তরীণ বাজার এখনো চড়া রয়েছে বলে জানায় বিজনেস রেকর্ডার।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে ভারতের ৫ শতাংশ খুদযুক্ত সেদ্ধ চালের রফতানি মূল্য প্রতি টন ৩৫৮-৩৬৪ ডলারে পৌঁছায়, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৩৫৬-৩৬১ ডলার। একইভাবে দেশটির ৫ শতাংশ খুদযুক্ত আতপ চালের দাম বেড়ে প্রতি টন ৩৫৭-৩৬৩ ডলারে দাঁড়ায়।

বাজারসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্য প্রধান চাল রফতানিকারক দেশের তুলনায় ভারতীয় চালের দাম এখনো অপেক্ষাকৃত সাশ্রয়ী। এ কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা ধীরে ধীরে ভারতের চালের দিকে ঝুঁকছেন। নয়াদিল্লিভিত্তিক এক ব্যবসায়ী জানান, সম্প্রতি ভারতের চালের দাম বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে দেশটির চাল এখনো বেশ প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে আছে, ফলে রফতানি চাহিদাও বেড়েছে।

দেশটির সরকারের দেয়া তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ভারতের চাল রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে বাসমতি চালের রফতানি কমলেও অন্যান্য চালের রফতানি প্রবৃদ্ধি সে ঘাটতি পুষিয়ে দিয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ওই অঞ্চলের বাজারে বাসমতি চাল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।

বিজনেস রেকর্ডারের ২৯ তারিখের (বুধবার) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের চালের বাজারেও দাম বেড়েছে। পর পর দুবার বন্যার কারণে দেশের ধান ও বীজতলার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে পাইকারি ও খুচরা বাজারে।

ভিয়েতনামে গত সপ্তাহে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের দাম কিছুটা বেড়ে প্রতি টন ৪৩০-৪৫০ ডলারে পৌঁছায়। সবচেয়ে বড় ক্রেতা দেশ ফিলিপাইন চাল আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করায় চাহিদা কিছুটা কম রয়েছে। তবে মুনাফার হার কম থাকায় ভিয়েতনামের ব্যবসায়ীরা দর কমাতে রাজি নন। তাই দেশটি এখন উন্নত মানের চাল উৎপাদনের দিকে নজর দিচ্ছে।

অন্যদিকে থাইল্যান্ডে চালের দাম সামান্য কমে প্রতি টন ৪৫০ ডলারে নেমে আসে। সেখানে চাহিদা কিছুটা কম থাকলেও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা নতুন মৌসুমের ফসলের জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন।

আরও